লন্ডন, ১৬ জানুয়ারি : অর্ডার অফ দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (ওবিই) পদকপ্রাপ্ত এবং বাংলাদেশের কৃতি সন্তান, দিরাইয়ের কুলঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক আলহাজ্ব দবিরুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুতে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
কেন্দ্রীয় কনভেনর মোহাম্মদ মকিস মনসুর, কো-কনভেনর মসুদ আহমদ, সদস্য সচিব ড. মুজিবুর রহমান এবং ট্রেজারার এম আসরাফ মিয়া সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও রিজিওনাল নেতৃবৃন্দ এক শোকবার্তায় মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোকাকুল পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
শোকবার্তায় গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে'র কেন্দ্রীয় কনভেনর ও ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, দবিরুল ইসলাম চৌধুরী (ওবিই) আমাদের শ্রদ্ধেয় শতবর্ষী দবির চাচা,বিশ্বব্যাপী মানুষের কল্যাণে তহবিল সংগ্রহ, দানশীলতা ও মানবসেবার এক দীর্ঘ ও গৌরবময় যাত্রায় তিনি আজীবন নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তাঁর জীবন ছিলো মানবতার সেবায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যাহা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।
মরহুমের বড় ছেলে, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সাপ্তাহিক জনমত এর সম্পাদকমন্ডলীর চেয়ারম্যান, আতিক চৌধুরী তাঁর মরহুম পিতার রুহের মাগফিরাত কামনা করে কমিউনিটির কাছে দোয়া চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯২০ সালের ১ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার কুলঞ্জ গ্রামে জন্ম নেওয়া দবিরুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৫৭ সালে ব্রিটেনে পাড়ি জমান। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশ ও প্রবাসে শিক্ষা, মানবকল্যাণ ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদান রাখেন।
১৯৫৭ সালে ইংরেজি সাহিত্য অধ্যয়ন করার জন্য ব্রিটেন আসার পর, লন্ডনের বাইরে সেন্ট আলবানসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানে কমিউনিটি‑ভিত্তিক কাজের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হন। তিনি শুধু সমাজসেবক ছিলেন না, বরং ছিলেন একজন উঁচুদরের চারণ কবি ও সৃষ্টিশীল প্রতিভার অধিকারী; রচনা করেছেন বহু কবিতা।
করোনা মহামারীর কঠিন বছরেগুলোতে তার মানবিক কাজ বিশ্ববাসীর কাছে নতুন করে পরিচিতি পায়। ২০২০ সালের রমজানে রোজা রেখে তিনি তাঁর পূর্ব লন্ডনের বো এলাকার বাসার সামনের বাগানে ৯৭০ লুপ হেঁটেছিলেন, শুধু কিছু অর্থ সংগ্রহের চেষ্টায় নয়, মানুষের দুর্দশা বুঝে তাদের পাশে দাঁড়াতে অন্যকে অনুপ্রাণিত করতে। এই প্রচেষ্টায় তিনি £৪২০,০০০-এরও বেশি অর্থ তহবিল সংগ্রহ করেন; এর অংশ বিশেষ NHS‑কে দেওয়া হয় এবং বাকি অর্থ দশটিরও বেশি দেশের দরিদ্র, অসহায় ও দুর্ভোগে থাকা মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় পাঠানো হয়।
বাংলাদেশের সিলেট, দিরাই উপজেলার কুলন্জ চৌধুরী বাড়ির জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নিজ এলাকায় ১৮টি প্রাইমারী স্কুল ও একটি খেয়াঘাট প্রতিষ্ঠা করেন। একবার তিনি সংসদ নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্ধিতা করেছিলেন, ১৯৭১-সালে সেন্ট আলবন্স এ্যাকশন কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
গত ১৩ জানুয়ারি রাত ১টা ২০ মিনিটে রয়েল লন্ডন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।)
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৬ বছর।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

নিজস্ব প্রতিনিধি :